রেজি: নং - আবেদিত                                                                                        শুক্রবার,  ১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং,  ৩০শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ,  রাত ১০:৩৭

তেঁতুল, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে স্বাদ বদলায়

November 7, 2018 , 10:20 pm

তেঁতুল বা তিন্তিড়ীর বৈজ্ঞানিক নামঃ Tamarindus indica, ইংরেজি নামঃ Melanesian papeda এটি Fabaceae পরিবারের Tamarindus গণের অন্তর্ভূক্ত টক স্বাদযুক্ত ফলের গাছ। এটি এক প্রকার টক ফল বিশেষ। আলঙ্কারিক অর্থে পাজি, দুষ্ট, বদমাশ মানুষকে তেঁতুলে লোক বলা হয়ে থাকে।

তেঁতুলে টারটারিক এসিড থাকায় খাবার হজমে সহায়তা করে। পেটের বায়ু, হাত-পা জ্বালায় তেঁতুলের শরবত খুব উপকারী। রক্তে কোলস্টেরল কমানোর কাজে আধুনিককালে তেঁতুল ব্যবহার হচ্ছে। জরে ভোগা রোগীর জর কমানোর জন্য এ ফল ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও স্কেলিটাল ফ্রুরোসিস(skeletal fluorosis) রোগের প্রকোপ হ্রাস করতেও এটি ব্যবহৃত হয়। পাকা তেঁতুল ভিজিয়ে রেখে সকালে শুধু পানি খেলে হাত-পায়ের জ্বালা কমে। তেতুল দেখলে শুধু ছেলেদেরই নয়, মেয়েদেরও লালা ঝরে। চটপটি, ফুসকায় মেয়েদের পছন্দের তালিকায় তেতুল গোলা টকই পছন্দের শীর্ষে । তেঁতুলের ফলই শুধু উপকারী নয়, তেঁতুল গাছেরও আছে অনেক ব্যবহার। মাংস কাটাকুটিতে কষাইরা, কোরবানীর সময় আম জনতা তেঁতুল গাছের ছোট ছোট টুকরা ব্যবহার করে। তবে তেঁতুল গাছের মুগুর মানুষকে সায়েস্তা করতে বেশ ওস্তাদ। তাই তেঁতুলের মুগুর হতে সাবধান থাকতে হবে।

কিন্তু আমাদের দেশে গোত্র ভেদে এর স্বাদ বদলায়। তেঁতুল যদি শত্রুর ঘড়ে ওঠে তবে তা টক আর নিজের ঘরে ওঠে তবে তা অতিশয় মিঠা হয়ে থাকে। আমাদের রাজনীতিতে তেঁতুলের অবস্থান বেশ মজবুত।

দেশে তেঁতুল ফলের সাথে আরেকটি নামও বেশ পরিচিত। তা হলো তেঁতুল হুজুর। এক হুজুর মেয়েদের তেঁতুলের সাথে তুলনা করেছিলেন। মেয়েরা নাকি তেঁতুলের মত, দেখলে লালা ঝড়ে! সেই তেঁতুল হুজুর যখন ১৩ দফা দাবি নিয়ে মাঠে নামেন তখন অনেকেই সমর্থন দিয়েছিলেন, অনেকে করেছিলেন বিরোধীতা।

যখন তেঁতুল হুজুর আন্দোলনে ব্যস্ত তখন এক নেত্রী সমাবেশে বলেছিলেন, “আলেমারা দাবি-দাওয়া নিয়ে মাঠে নেমেছেন। মহানবী (সা.) এর বিরুদ্ধে যারা বাজে কথা বলেছেন, তাদের শাস্তির দাবিতে আলেম-উলামারা এই আন্দোলন করছেন। তার জন্য আমি তাদের আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানাই।” তিনি আরো বলেন, “দেশের আলেম-উলামারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়েছেন। আমরা মনে করি, গণতান্ত্রিক দেশে সবারই গণতান্ত্রিক কর্মসূচি করার অধিকার রয়েছে। সরকারকে বলব, তাদের কর্মসূচিতে বাঁধার সৃষ্টি করবে

ন না।”

আর অপর নেত্রী তখন তেঁতুল হুজুর সম্পর্কে বলেছিলেন “মহিলাদের সম্পর্কে এই যে নোংরা কথা বলা- উনি কি মায়ের পেট থেকে জন্মান নাই? তো মায়ের সম্মানটুকু উনি রাখবেন না? ওঁনার কি বোন নেই? নিজের স্ত্রী নেই? তাঁদের সম্মান রাখবেন না? এরকম নোংরা জঘন্য কথা বলবেন!”

২০১৩ সালের ৫ মে অনুষ্ঠিত ঢাকা অবরোধে অনেক নেতা পানি, জুস, রুটি, হালুয়া নিয়ে সেবা করেছিলেন হুজুরদের। কেউ কেউ এই অবরোধ অয়েকদিন চালিয়ে সরকার পতনের খোয়াবও দেখেছিলেন। আবার অনেক নেতা হুজুরের বিষদগার করতেও ছাড়েননি। তারা হুজুরের বিভিন্ন দফা নিয়ে চুল চেরা বিশ্লেষণ করে কিভাবে ঘায়েল করা যায় সেই পথে হেটেছেন।

এর পর জিভের পানি গড়িয়ে অনেক দূর চলে গেছে। আস্তে আস্তে কিছু দাবি দাওয়া মানার পর তেঁতুল হুজুরের সাথে অনেকের সম্পর্ক গাড় হয়েছে। এখন তেঁতুল বড় মিঠা। আর যারা এতদিন তেঁতুলের মুগুর দিয়ে পিটিয়ে সরকার পতনের খোয়াব দেখেছেন, তাদের কাছে আজ তেঁতুল বড়ই টক। তাই স্থান, কাল, পাত্র ভেদে তেঁতুলের স্বাদ নির্ভর করে।

তবে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। তেঁতুল গাছে ফল ধরে অনেক বেশি, কিন্তু পাকা পর্যন্ত টিকে কম। তেঁতুল গাছে ইন্দুরের আক্রমন হয়। ইন্দুরে কাচা তেঁতুল কেটে ফেলে। তাই অনেক ফল সহ তেঁতুল গাছ নিজ ভূমিতে আবাদ করলেও খেয়াল রাখতে হবে যেন ইন্দুরে কেটে বিনাশ না করে। তবেই তেঁতুলের স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন।

 

লেখকঃ আইনজীবী ও কলামিস্ট, শরীয়তপুর জার্নালের উপদেষ্টা সম্পাদক।

Total View: 38

    আপনার মন্তব্য


[fbcomments]