রেজি: নং - আবেদিত, প্রতিষ্ঠাকাল: ১মার্চ ২০১৪                                           বুধবার,  ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  রাত ২:৪০

খুন করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেরাই ফেঁসে গেল।

March 28, 2018 , 4:49 pm

গতকাল (২৭ মার্চ) মঙ্গলবার শরীয়তপুর চীফজুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সজিবকে হত্যার কারণ ও হত্যার বিবরণ তুলে ধরে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে গ্রেফতার হওয়া দুই আসামী। আসামীদ্বয় হলেন সদর উপজেলার তুলাসার ইউনিয়নের উপরগাঁও গ্রামের মৃত সামসুদ্দিন বেপারীর ছেলে রেজাউল হক পেবারী (৪২) ও আ. খালেক দেওয়ানের ছেলে জাহাঙ্গীর দেওয়ান (৩০)। গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয়কে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই অটোরিক্সা চালক সজিব সরদারকে (১৭) খুন করা হয়েছে বলে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন গ্রেফতারকৃত ২ আসামী। আজ বুধবার (২৮ মার্চ) বিকাল ৪টায় পালং মডেল থানায় এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে এ কথা জানিয়েছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান।

পালং থানা সূত্রে জানায়, গত ২১ মার্চ রাত সারে ১১টার সময় গ্রেফতারকৃত আসামীদ্বয় আরও কয়েকজন খুনীর সহায়তায় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে উপরগাঁও এলাকার মোতালেব খার ফসলি জমিতে গলা কেঁটে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে সজিব সরদারকে হত্যা করে। এ বিষয়ে নিহত সজিবের পিতা ১০ জন আসামী করে পালং থানায় এজাহার দায়ের করে। তদন্তে এজাহার নামীয় আসামীদের সাথে এ খুনের কোন যোগসাজস না পেয়ে পুলিশ ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে তদন্ত চালায়। আধুনিক প্রযুক্তি, মোবাইল নেটওয়ার্ক ট্রাকিং ও সোর্সের সহায়তায় আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আসামীদের শরীয়তপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মুক্তা রাণী ও কানিজ তানিয়া রূপার আদালতে হাজির করা হয়। আসামীরা আদালতে তাদের অপরাধ স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারা অনুযায়ী হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই রূপু কর বলেন, নীলকান্দি এলাকার মতিউর রহমান মুন্সীর সাথে মামলার বাদী কুদ্দুস সরদারের দ্বন্দ্ব ছিল। একই সাথে মতিউর রহমান মুন্সীর সাথে আসামী রেজাউল ও জাহাঙ্গীরদেরও দ্বন্দ্ব ছিল। তাই মতিউর রহমান মুন্সীকে ফাঁসাতে আসামীরা সজিব সরদারকে হত্যা করে। প্রথমে সজিবের রিক্সায় যাত্রি হয়ে এক খুনী সজিবকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। পরে একে একে সকল খুনীরা একত্রিত হয়। পরে সজিবকে গলা কেঁটে হত্যা করা হয়।

পালং মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত ও রহস্যজনক হত্যাকান্ড। আধুনিক প্রযুক্তি ও মোবাইল ট্রাকিং এর মাধ্যমে দুই জন খুনীকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের স্বীকারোক্তি থেকে সকল খুনীর নাম ঠিকানা এবং কে কী ভাবে খুনে অংশগ্রন করেছে তাও জানা গেছে। খুনীদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সজিব সরদার (১৭) নামে এক অটোরিক্সা চাকলকে গত বুধবার (২১ মার্চ) রাত সারে ৯টায় আংগারিয়া বাগচী বাজার এলাকা থেকে যাত্রী নিয়ে যেতে দেখেছে বাজারের ব্যবসায়ীরা। আর ফিরে আসেনি সজিব। গত বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) ভোরে তুলাসার ইউনিয়নের উপরগাঁও এলাকার একটা ফসলী জমিতে সজিবের গলাকাঁটা ক্ষত বিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়।

Total View: 1134