রেজি: নং - আবেদিত, প্রতিষ্ঠাকাল: ১মার্চ ২০১৪                                           বুধবার,  ৪ঠা আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ২০শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  রাত ৩:২৩

নড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধাকে প্রান নাশের হুমকি দিচ্ছে রাজাকারের সন্তান -মুক্তিযোদ্ধা হাসেম ।

June 1, 2018 , 6:56 pm

রাজাকারের সন্তানরা প্রতিনিয়তই প্রান নাশের হুমকি ধামকি দিচ্ছে, নিজ ঘরে থাকতে ভয় হয়, নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে অবহিত করলাম, প্রয়োজন হলে ডি.সি মহোদয় সহ অামাদের মন্ত্রনালয়ে যানাবো, এই বৃদ্ধ বয়সে একটু স্বস্তি চাই, নির্ভয়ে কিছুদিন বাঁচতে চাই”। ক্ষোভ ও চাপা ভয় নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা অাবুল হাসেম সিকদার।
তিনি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলাধীন ঘড়িসার ইউনিয়নের সিংহলমুড়ি গ্রামের মৃত দইমুদ্দিন সিকদারের ছেলে।
১৯৭১ এ সাধীনতা সংগ্রামের যুদ্ধে অংশগ্রহন করে তিনি। তার গেজেট নাম্বার ১১৫৯ এবং লাল বার্তা নং ০১১২০৪০১০৫ বলে জানিয়েছেন তিনি।
তাকে অহেতুক এবং শড়যন্ত্রমুলক ভাবে জমিজমা সংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমা দিয়ে নানাভাবে ক্ষতি করার চেষ্টা সহ ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রান নাশের হুমকি দেয়া হয়েছে তাই তিনি ০৯জনের নাম উল্যেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি লিখিতভাবে অবগত করেছেন বলে জানাগেছে।

অভিযুক্তরা হলেন নড়িয়া উপজেলাধীন ঘড়িসার ইউনিয়নে সিংহলমুড়ি গ্রামের মৃত অাকুব অালী সিকদারের পুত্র পনু সিকদার ওরফে রিপন সিকদার, রফিক সিকদার, জয়নাল হক সিকদার, লিয়াকত সিকদার, মৃত অাফাজ উদ্দিন সিকদারের পুত্র মজিদ সিকদার ও সাহজাহান সিকদার, মৃত অায়নাল সিকদারের পুত্র অাঃ খালেক সিকদার এবং একই ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪ ৫ ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহানাজ বেগম।

মুক্তিযোদ্ধা অাবুল হাসেম সিকদার ও তার ভাই লোকমান সিকদার জানান, অামাদের নিজ মালিকানা এবং দখলে থাকা জমিজমা নিয়ে উপরোক্ত অভিযুক্তগন অামাদের হয়রানী করার জন্য অহেতুক দাবী দাওয়া করে অাসছে। অাদালতে জমিসংক্রান্ত মামলা মোকদ্দমাও চলিতেছে, কিন্তু নানান সময়ে উপরোক্ত ব্যাক্তিগন হুমকি ধামকি এবং ভীতি দেখাচ্ছে, সম্প্রতি তারা রাস্তাঘাটে এবং ঘরের সামনে এসে একজোটে গালিগালাজ করা শুরু করেছে, অামরা প্রতিবাদ করতে পারি না, তারা সকলে একজোট হয়ে প্রভাব বিস্তার করে, এলাকার অনেকেই তাদের দেয়া মিথ্যা মামলা এবং হামলার শিকার হয়েছে, ভয়ে কেউ কিছু বলেনা। অামাদের ভয় দেখিয়ে ওরা বলে চাপাতি দিয়া কোপাইয়া তিন টুকরা কইরা ফালাবো, মামলা দিবি, অামাগো কিছুই করতে পারবি না, মামলার টাকা রেডি কইরা রাখছি জন প্রতি ১লাখ খরচ করমু অাসামী ছাড়াইতে, তারপর কি করবি?
এরকম অবস্থায় ইউএনও মহোদয়কে বিষয়টা লিখিতভাবে জানিয়েছি, ঘরে থাকতেই ভয় হয়, ওরা হিংস্র মানুষ, মৃত অাকুব অালী সিকদার যুদ্ধের সময় রাজাকার ছিলেন, রাজাকারের সন্তানরা এখন ভয় দেখায়। স্ত্রী জীবিত না, অামার সন্তানরা প্রবাসে থাকে, ঘরে একা থাকি অামি, অামাকে ওরা যেকোন সময়ে ক্ষতি করতে পারে, তাই অামার নিরাপত্তার কথা চিন্তা করেই অভিযোগটি করলাম বলে জানালেন মুক্তিযোদ্ধা অাবুল হাসেম সিকদার।
এসময় তার সাথে অারে বেশকয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, তারাও সহমর্মিতা জানিয়ে এর প্রতিকার চেয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি, স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন অাগে এক বৃদ্ধাকে মারধর করার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে, হয়তো মামলা-পুলিশের ভয়েই বাড়ি থাকেন না। পনু সিকদারের স্ত্রী এবং ঘড়িসার ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪ ৫ ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শাহানাজ বেগমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে গালিগালাজ সহ নানা অশ্লীল ভাষা ব্যবহারের।
তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, অাপনারা কি জানবেন, উনি কি মুক্তিযোদ্ধা? এগুলা সব মিথ্যা কথা, অামি তাগো গাইল্লামু ক্যা? অভিযোগকারীদের কাছে অাপনার গালির প্রমান রয়েছে এমনটা জানিয়েছেন অামাদের বলতেই শাহানাজ রেগে গিয়ে বলেন অাপনেরা পাইলেন ক্যামনে? অাপনাগো কাছে এর প্রমান কি? তবে অালাপচারিতার এক পর্যায়ে শাহানাজ বলেন, সাংবাদিকগো অামি এলাকার কতো তথ্য দেই, অার অাপনে অামার তথ্য নিবেন, কতো সাংবাদিকরা অাইসা নিয়া যায়, তাদের দেই, দেখেন নড়িয়া বাজারে সাংবাদিক অালমের অফিসে বিকালে থাইকেন, পারলে ওই মুক্তিযোদ্ধারেও রাইখেন।

নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা ইয়াসমিন লিখিত অভিযোগ সম্পর্কে বলেন, অামি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, অামি নড়িয়া থানা পুলিশের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য অভিযোগপত্রটি পাঠিয়েছি। অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধা অাবুল হাসেম সিকদার এখন নড়িয়া থানা পুলিশ কে বিস্তারিত ঘটনাবলী অবগত করলেই অাশা করছি তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Total View: 1104