রেজি: নং - আবেদিত, প্রতিষ্ঠাকাল: ১মার্চ ২০১৪                                           রবিবার,  ১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  সকাল ১১:২৮

শরীয়তপুরের চিকন্দী ইউনিয়নে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে কানা রমিজ।

December 7, 2019 , 8:17 pm
কানা রমিজ

স্টাফ রিপোর্টারঃ

শরীয়তপুর জেলার সদর উপজেলার খুব নিকটে চিকন্দী ইউনিয়ন, এ ইউনিয়নটি একটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল, এ অঞ্চলে বৃটিশ আমল থেকেই রয়েছে চৌকি কোর্ট ১৯৭২ সাল থেকে রয়েছে মুনসেফ কোর্ট। চিকন্দী ইউনিয়নের রয়েছেন একজন বিচারপতি, ২০ জনেরও বেশি এডভোকেট, ডাক্তার, পুলিশ , সেনাবাহিনী, বড় ব্যাবসায়ীসহ অনেক জ্ঞানী-গুনী মানুষের জন্ম এই চিকন্দী অঞ্চলে।

এবং এই চিকন্দী ইউনিয়নের আবুরা গ্রামেই জন্ম আব্দুল আজিজ খাঁর ছেলে রমিজ খাঁ ওরফে কানা রমিজ (৭৫) চিকন্দী ইউনিয়নসহ আশপাশের ইউনিয়নের মানুষের কাছে একটি আতংকের নাম।
কানা রমিজের ভয় দেখিয়ে ওই অঞ্চলের বাচ্চাদের ঘুম পাড়ায় মায়েরা।

এই রমিজ খাঁরও অন্যন্য মানুষের মত দুটি চোঁখ ছিলো, রমিজ খাঁর অন্যায় অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার মানুষ তার চোঁখ দুটি উঠিয়ে ফেলে সেই থেকে তার নাম হয়ে যায় কানা রমিজ। চোঁখ উঠানোর পরেও তিনি থেমে না থেকে হয়ে উঠে আরো ভয়ংকর গড়ে তোলেন ডাকাত বাহিনী।

১৯৮৪ সালের ৬ মে চিকন্দী মুনসেফ কোর্টের মুনসেফ খুন হন ডাকাতের হাতে। সে হত্যাকান্ডের রমিজ খাঁ ও তার ভাইদের আসামি করা হয়েছিলো।

কানা রমিজ খাঁর নাম শোনেনি চিকন্দী ইউনিয়নসহ আশপাশের এমন কোনো এলাকার মানুষ নেই।

তার এবং তার ছেলেদের নির্যাতনের শিকার হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। চিকন্দী বাজারের বড় ব্যাবসায়ী, ছোট ব্যাবসায়ী, চা- পানের দোকানদার, দুধ ওয়ালা,মুচি থেকে শুরু করে ফুটপাতের হকারদের কাছ থেকেও দীর্ঘদিন ধরে চাঁদা আদায় করে আসছে কানা রমিজের সন্ত্রাসী বাহিনী। এই গ্রুপের সেকেন্ড ইন্ড কমান্ডের দায়িত্ব পালন করে আসছে রমিজ কানার সেজো ছেলে মোদাসছের খাঁ।

শরীয়তপুর জেলার চিকন্দীতে ১৯৭২ সাল থেকে রয়েছে একটি মুনসেফ কোর্ট আর এই কোর্টকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে তার সন্ত্রাসের রাজ্য। কয়েক যুগ ধরে চালিয়ে যাচ্ছে তার এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম।

তার এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীর ভয়ে কেউ মুখ খোলেনা মুখ খুললেই তার উপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন, এরকম অভিযোগই করছেন স্থানীয় শত শত মানুষ। তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে হত্যা, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, ছিনতাই, চুরি,ডাকাতি, শালিস করে টাকা নেয়া, মারামারিতো আছেই।
এমনকি রমিজ খাঁ জোর করে তার বর্তমান তৃতীয় স্ত্রীকে হিন্দু থেকে মূসলমান বানিয়ে বিয়ে করেছে।
তার ৯ জন ছেলে সন্তান ও
বেশ কয়েকজন ভাই থাকায় সন্ত্রাসী বাহিনী চালাতে হয়েছে আরো সহজ। তার ছেলেরা রয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনীর অন্যতম সদস্য হিসেবে।
এছাড়াও রয়েছে কালাম খাঁ, আসেদ মাদবরের ছেলে মিন্টু মাদবর, আসাদ উদ্দিন খান ও তার ছেলে আলামিন খানসহ রয়েছে সন্ত্রাসের বিশাল বাহিনী।
কানা রমিজ খাঁ চোঁখে দেখেনা বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তার বিরুদ্ধে নিতে পারেননা তেমন কোনো পদক্ষেপ। তিনি তার গ্রুপ নিয়ে বরাবরই থাকেন সুবিধাবাদী রাজনীতির পেছনে, যার ফলে তার বিরুদ্ধে কেউ কোনো অভিযোগ করতে সাহস করেনা।

কেউ কানা রমিজের সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা করলে উল্টো তার বিরুদ্ধেই মামলা দিয়ে হয়রানী এবং তার বাড়ি ঘরে লুটপাট চালায় রাতের আধারে এমনকি বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়, নির্যাতনতো আছেই।

যারা চিকন্দী ইউনিয়নের সুস্থ পরিবেশ দেখার আশায় অনেক বিপদের মাঝে থেকেও মামলা পর্যন্ত গিয়েছেন, তাদের সে আশাও পূরণ হয়নি। কারণ মামলায় রমিজ খাঁ ও তার বাহিনীর কিছুই করতে পারেনা।

সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটিয়ে চিকন্দী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন এই ভয়ংকর সন্ত্রাসের জন্মদাতা রমিজ খাঁ ওরফে কানা রমিজ। তার স্ত্রীও চিকন্দী ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য।

কানা রমিজের ৯ ছেলেরা হলো- ১ম স্ত্রীর ঘরে মোদাসছের খাঁ, জাহাঙ্গীর খাঁ, নূরুজ্জামান খাঁ, ওয়াহেদ খাঁ,
২য় স্ত্রীর ঘরে আলমগীর খাঁ, বাবুল খাঁ, আলী আজম খাঁ, আজিজুল খাঁ এবং ৩য় স্ত্রীর ঘরে রয়েছে এক ছেলে ইকবাল খাঁ।
এরা প্রত্যেকেই কুখ্যাত অপরাধী। এমন কোনো অপরাধ নেই এরা করতে পারেনা। এমনটাই জানালেন ৭৫ বছর বয়সী হাজী মোসলেম মাদবরসহ আরো অনেকে। এইতো কয়দিন আগেও আবুরা গ্রামের বাসীন্দা হাজী মোসলেম মাদবরের ছোট ভাই শাহজাহান মাদবরের সাথে জমিজমার বিরোধকে কেন্দ্র করে চিকন্দী বাজারে শত শত মানুষের সামনে বেধরক পিটিয়ে তার হাত পা ভেঙ্গে দেয় কানা রমিজের সন্ত্রাসী বাহিনী, এ হামলার প্রতিবাদে কানা রমিজের বিচার চেয়ে মিছিল করে এবং এ ঘটনায় একটি মামলাও হয়েছে পালং মডেল থানায়।

চিকন্দীর বাজারের বিল্লালের মোড়ের এক চায়ের দোকানী জানান, তার কাছ থেকে চা খেতে এসেছিলো কানা রমিজের ছেলে ও তার সন্ত্রাসী গ্রুপের কয়েকজন চা দিতে একটু দেরী হওয়ায় তাকে বেধরক পিটিয়ে আহত করে তারা।

চিকন্দী ইউনিয়নের নির্যাতিত সাধারণ মানুষ এই কানা রমিজের সন্ত্রাসী বাহিনীর হাত থেকে রেহাই পেতে চায়।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা রমিজ খাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত করছি, প্রমান পেলে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

Total View: 1820

    আপনার মন্তব্য


[fbcomments]