রেজি: নং - আবেদিত, প্রতিষ্ঠাকাল: ১মার্চ ২০১৪                                           বুধবার,  ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  সকাল ৬:৫০

শরীয়তপুরে আলোচিত বৃষ্টি হত্যার ৩ বছর, বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বাদী।

January 6, 2020 , 12:57 pm

শরীয়তপুর প্রতিনিধিঃ
সুপ্তা চৌধুরী।

শরীয়তপুর পৌরসভার ০৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা খাদিজা আক্তার বৃষ্টি নামে এক গৃহবধূকে শ্বশুর, শ্বাশুরী ও স্বামী মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ৫ মার্চ ২০১৭ সালে।

বৃষ্টি হত্যার বিচারের দাবিতে একাধিকবার মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা।

বৃষ্টি হত্যা কান্ডটি আলোচিত হওয়ায় তাৎক্ষণিক আসামীদের গ্রেপ্তার করা হয়, এক পর্যায়ে মূল আসামীসহ সকল আসামীরা জামিনে বের হয়ে যায়। এরপর ভূক্তভোগী পরিবারকে হুমকি ধমকি দেয়া শুরু হয় হত্যা মামলা তুলে নিতে। শত হুমকি ধমকির মধ্যেও পরিবারটি মেয়ে হত্যার বিচারের আশায় ৩ বছর ধরে যাতায়াত করছে আদালতে।

তিন বছর হয়ে গেলেও এখনো স্বাক্ষীদের আদালতে উঠানো হয়নি বা গ্রহন করা হয়নি স্বাক্ষ্য। মেয়ে হত্যার বিচারের পেছনে ছুটতে ছুটতে পরিবারটি আজ ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এখন তাদের দাবি দ্রুত স্বাক্ষী গ্রহন করে মামলার আসামীদের শাস্তি দেওয়া হোক।

নিহত বৃষ্টির বাবা মামলার বাদী হাসেম বেপারী বলেন, আমার মেয়ে খুন হয়েছে তিন বছর হয়ে গেলো, কিন্তু আজ পর্যন্ত ১ জন স্বাক্ষীকেও আদালতে উঠানো হয়নি। এই মামলা লড়তে গিয়ে আমরা এখন ক্লান্ত হয়ে গিয়েছি। টাকা পয়সা সব শেষ হয়ে গিয়েছে। অনেকের কাছেই ঘুরেছি কোন কাজ হয়নি। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।

বৃষ্টির মা বিউটি বেগমসহ এলাকাবাসী সবাই এ হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচার দাবি করেন।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ৫ মার্চ রোববার দুপুর ১টার দিকে শরীয়তপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ধানুকা গ্রামে বৃষ্টির স্বামীর বাড়িতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় স্বামী রফিকুল ইসলাম মাদবরকে আটক করেছে পুলিশ।

খাদিজা আক্তার বৃষ্টি শরীয়তপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ধানুকা গ্রামের হাশেম বেপারীর মেয়ে। সে আংগারিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, হত্যার আট মাস আগে শরীয়তপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের ধানুকা গ্রামের রাজ্জাক মাদবরের ছেলে রফিকুল ইসলাম মাদবরের সঙ্গে একই গ্রামের হাশেম বেপারীর মেয়ে খাদিজা আক্তার বৃষ্টি প্রমের সম্পর্ক করে পালিয়ে বিয়ে করে তারা। বিয়ের পর থেকে বৃষ্টির স্বামীর পরিবার তাকে মেনে নেয়নি। গত দুই সপ্তাহ আগে দুই লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে বৃষ্টিকে মেনে নেয় রফিকুলের পরিবার। যৌতুকের টাকা নিয়ে প্রতিদিনই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হত। রোববার স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এনিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া বাধে। বাড়িতে ফিরলে ক্ষোভে বৃষ্টির স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর মিলে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে বৃষ্টির চাচা আবু তাহের বেপারী জানান, ওরা দুজন পালিয়ে বিয়ে করে। গত ১৫/১৬দিন আগে দুই লাখ টাকা যৌতুক চেয়ে বৃষ্টিকে মেনে নেয় রফিকের পরিবার। যৌতুক না দেয়ায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন গলায় ওড়না পেঁচিয়ে বৃষ্টিকে মেরে ফেলছে। এ বিষয়ে বৃষ্টির বাবা হাশেম বেপারী বলেন, রফিকুল ও তার পরিবার আমার মেয়েকে হত্যা করেছে। আমি ওদের বিচার চাই।

এ ব্যাপারে কথা বলতে পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি)
মির্জা হযরত আলী মুঠো ফোনে জানান, খাদিজা আক্তার বৃষ্টি হত্যা মামলাটি চলমান রয়েছে ডিসেম্বর শেষে জানুয়ারীতে জজ কোর্টের কার্যক্রম চালু হলে এ বিষয়ে আরো জানানো সম্ভব হতো।

Total View: 621