রেজি: নং - আবেদিত, প্রতিষ্ঠাকাল: ১মার্চ ২০১৪                                           রবিবার,  ১৬ই মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  দুপুর ১:০৫

শরীয়তপুরে হজ্বের নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও ফারিহা হজ্ব এজেন্সির মোয়াল্লেম তাজুল

June 26, 2019 , 2:52 pm

শরীয়তপুরে কোটি টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে তাজুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। তাজুল ইসলাম ফারিহা ওভার সীজ নামে একটি হজ্ব এজেন্সির মোয়াল্লেম হিসেবে কাজ করতেন। ফারিহা ওভারসীজ নামে তাদের ঢাকা পুরানা পল্টন হেড অফিস রয়েছে এবং শরীয়তপুর সদরে একটি অফিস আছে যাহার লাইসেন্স নম্বর ৭৬৮। সে শরীয়তপুরের পৌর এলাকার হাজরাসার গ্রামের ইসমাইল খানের ছেলে। এ ঘটনায় শরীয়তপুর পালং থানায় মামলা ও জেলা পুলিশ সুপার অফিসে অভিযোগ দিয়েছেন প্রতারণার শিকার হজ্বে যাওয়ার যাত্রীরা। এর মধ্যে হজ্বের জন্য টাকা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ছে পালং থানার সাবেক (ওসি) মনিরুজ্জামান, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মদ তালুকদার, ডামুড্যার কামাল মাস্টার সহ প্রায় ৪০ জন হজ্ব যাত্রী। মামলার আগে থেকেই তাজুল ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফারিহা ওভারসীজে মোয়াল্লেম হিসেবে তাজুল ইসলাম প্রায় ৬ বছর যাবৎ সুনামের সাথে কাজ করছে। হজ্বে নেয়ার পর হাজিদের প্রতি খুব খেয়াল ও যত্নশীল ছিলো কোন রকম সমস্যার মধ্যে পরতে হতো না হাজিদের । তার এই সুনাম হাজিদের মুখে মুখে ছড়িয়ে পরে জেলা জুড়ে, এই সুনামের কারনেই আগের বছর গুলোর তুলনায় এই বছর হজ্ব যাত্রী বেড়ে যায় যার পরিমাণ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো। প্রত্যেক হজ্ব যাত্রীর সাথে মোয়াল্লেম তাজুল ইসলামের হজ্বের সব রকম খরচ বাবদ ৩ লক্ষ বিশ হাজার টাকা চুক্তি ছিলো। বেশিরভাগ হজ্ব যাত্রীরা তাকে সড়ল মনে বিশ্বাস করে পুরো টাকা আগেই দিয়েছিলো। কিছু সংখ্যক হজ্ব যাত্রীর টাকা ফারিহা ওভারসীজের ব্যাংক একাউন্টে জমা করলে ও বেশি সংখ্যক যাত্রীর টাকা তার কাছে রেখে দেয় পরে সময় ও সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে তাজুল প্রায় দুই মাস আগে হজ্ব যাত্রীদের সব টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এমতাবস্থায় প্রায় ৪০ জন হজ্ব যাত্রীর হজ্বে যাওয়া অনিশ্চত হয়ে পরেছে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারুক আহম্মদ তালুকদার বলেন, আমি সহ আমার পরিবারের চার জন হজ্বে যাওয়ার জন্য দুুই থেকে তিন মাস আগে ফারিহা ওভার সীজের মোয়াল্লেম তাজুল এর কাছে ৬ লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দেই, তার কিছু দিন পর থেকে তাজুলের আর কোন খোজ খবর পাইনা। পরে হজ্ব এজেন্সি ফারিহা ওভার সীজের কতৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করলে তারা বলে তাজুল অনেক আগে থেকেই আমাদের এই খানে কাজ করে না তার থেকে আমরাও টাকা পাই।
আর এক ভুক্তভোগীর ছেলে আরাফাত বলেন আমি আমার বাবা মায়ের হজ্বে যাওয়ার জন্য ৬ লক্ষ টাকা দেই ২০১৮ সালে সেই বছর তাজুল বলে আপনাদের টাকা দিতে দেরি হয়ে গেছে আপনাদের আগামী বছর নিবো যেহেতু বলছে আগামী বছর নিব এজন্য টাকা ও নেই নাই তার কাছ থেকে এই বছর তার সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তাকে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার মোবাইলে ফোন দিলে ফোন বন্ধ বলে। এই বছরে ও আমার বাবা মায়ের হজ্বে যাওয়া হলো না।
এবিষয়ে ফারিহা ওবার সীজের মালিক ফজলুর রহমান বলেন, তাজুল পালানোর পর অনেকেই আমার কাছে আসছিলো, আমাকে বলে কেউ টাকা দেয় নাই। তার পর ও আমি তাজুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা নিচ্ছি।

Total View: 1026

    আপনার মন্তব্য


[fbcomments]