রেজি: নং - আবেদিত, প্রতিষ্ঠাকাল: ১মার্চ ২০১৪                                           বুধবার,  ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,  ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,  সকাল ৭:১৪

সাবেক ডেপুটি স্পিকার জাতীয় বীর কর্নেল (অবঃ) শওকত আলীর ১ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে স্বরন সভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত।

November 17, 2021 , 7:09 pm

শরীয়তপুর জার্নাল ডেস্কঃ ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার ২৬ নম্বর অভিযুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা,সাবেক ডেপুটি স্পিকার ও সাংসদ সদস্য জাতীয় বীর কর্নেল (অবঃ) শওকত আলীর ১ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে স্বরণ সভা, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৬ নবেম্বর ) সকাল ১০ টায় নড়িয়া স্বাধীনতা ভবনে শওকত আলীর প্রতিকৃতে বিভিন্ন রাজনৈতিক,সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা পুষ্পমাল্য অর্পণ করে সকাল ১১ টায় কর্নেল শওকত আলী ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে স্বরণ সভা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরপর কর্নেল শওকত আলী স্মৃতি পরিষদের উদ্যেগে শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি প্রধান করে সুবিধা বঞ্চিত নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতাড়ন করা হয়। দুপুর ১২ টায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে গণ ভোজের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডাঃ খালেদ শওকত আলীর সভাপতিত্বে সৃতিচারণ করেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপ মন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম,কর্নেল শওকত আলীর বড় ছেলে মোঃ ফিরোজ আলি। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন,শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাবেদুর রহমান খোকা সিকদার,নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ রাশেদুজ্জামান,শরীয়তপুর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট পারভেজ রহমান জন,নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবনি শংকর কর, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও শরীয়তপুর জজ কোর্টের জিপি এডভোকেট আলমগীর মুন্সি, নড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাস্টার হাসানুজ্জামান খোকন। কর্নেল শওকত আলী ১৯৩৭ সালের ২৭ জানুয়ারি শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলাধীন লোনসিং বাহের দীঘিপার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পিতার নাম মুন্সী মোবারক আলী এবং মাতার নাম মালেকা বেগম । কর্নেল শওকত আলী ১৯৫৩ সালে তৎকালীন পূর্ব বাংলা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পটুয়াখালী জেলার খেপুপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে অংকে লেটারসহ প্রথম বিভাগে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন । তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শহীদ সাহেরাওয়ার্দী কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে আইকম এবং দ্বিতীয় বিভাগে বিকম পাশ করেন । ১৯৬৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন । তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদপ্রাপ্ত হন এবং ১৯৭৮ সালে সুপ্রীমকোর্ট বার এসািেসয়েশনের সদস্যপদ লাভ করেন । কর্নেল শওকত আলী ২৪ জানুয়ারি ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অর্ডন্যান্স কোর এ কমিশন লাভ করেন । পেশাগত দক্ষতা বিবেচনা করে তাকে করাচির নিকটবর্তী মালির ক্যান্টনমেন্টে অর্ডন্যান্স স্কুলের প্রশিক্ষক নিয়োগ করা হয় । তিনি “ রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য মামলার ( যা আগরতলা মামলা নামে সমধিক পরিচিত ) ২৬ নং অভিযুক্ত ছিলেন । ষাটের দশকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র পন্থায় বাংলাদেশকে স্বাধীন করার জন্য পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীসমূহের বাঙালি অফিসার ও সৈনিক , প্রাক্তন সৈনিক , বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা ও চাকরিজীবী , ব্যবসায়ী , রাজনৈতিক নেতাকর্মী সমন্বয়ে যে বিপ্লবী পরিষদ গঠিত হয়েছিল , কর্নেল শওকত আলী ( তৎকালীন ক্যাপ্টেন ) তার সদস্য ছিলেন । তিনি উক্ত মামলায় মালির ক্যান্টনমেন্ট থেকে ১০ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে গ্রেপ্তার হন । ১৯৬৯ সালে বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক গণ বিস্ফোরণের মুখে পাকিস্তান সরকার মামলাটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় । বঙ্গবন্ধু এবং কর্নেল শওকত আলীসহ সকল অভিযুক্তগণ ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে ঢাকা ক্যান্টমেন্টের বন্দিশালা থেকে মুক্তিলাভ করেন । তাঁকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে ১৯৬৯ সালে বাধ্যতামূলক অকাল অবসর দেওয়া হয় । তিনি ১৯৭১ সালে সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন । মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কর্নেল শওকত আলী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মূল্যবান অবদান রাখেন । ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের শত্রুদের দ্বারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হওয়ার পর কর্নেল শওকত আলীকে ২ য় বার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে পুনরায় বাধ্যতামূলক অকাল অবসর দেওয়া হয় । অবসরের সময় তিনি কর্নেল পদে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদর দপ্তরে অর্ডিন্যান্স সার্ভিসেস – এর পরিচালক ( ডিওএস ) ছিলেন । কর্নেল শওকত আলী ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন । বর্তমানে তিনি শরীয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য । বঙ্গবন্ধু পরিষদের তিনি অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমানে এই সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য । তিনি প্রজন্ম – ৭১ – এর জন্মলগ্ন থেকে এই সংগঠনের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এবং এর প্রধান উপদেষ্টা । তিনি আফ্রো – এশীয় গণসংহতি সংস্থা আপসো – এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং বিশ্বশান্তি পরিষদ বাংলাদেশ শাখার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য । তিনি মুক্তিযাদ্ধো সংহতি পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক ছিলেন এবং এই সংগঠনের চেয়ারম্যান ও ছিলেন। কর্নেল শওকত আলী ১৯৭৭ সালে দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় সক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । উল্লেখ্য যে , দ্বিতীয় জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাত্র ৩৯ জন সদস্য ছিলেন । ওই সংসদে তিনি আওয়ামী লীগ সংসদীয় দল তথা বিরোধী দলের হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদে তিনি পুনরায় সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও পিটিশন কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন । তিনি ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন । এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল এবং বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত

Total View: 32